নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর: সাংবাদিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আলোচিত নারী প্রতারক মাহমুদা জামানের কঠোর শাস্তির দাবিতে এবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ভুক্তভোগীরা। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা মাহমুদার প্রতারণার লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আ. সোবাহান। তিনি জানান, যশোর সদরের সদুল্যাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে মাহমুদা জামান (বর্তমানে ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা) দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ব্যাংক কর্মকর্তা, এনজিওর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। স্বল্প সুদে বড় অংকের লোন পাইয়ে দেওয়া, বিমা সুবিধা এবং এনজিওতে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা এবং সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক হাতিয়ে নিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মাহমুদা প্রতারণা করে ইন্নাতুল হাসানের ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, দীপু খাতুনের ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা, শুকুর আলীর ৬ লাখ টাকা এবং ইমরান হোসেনের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোহান, রমজান, আল আমিন, সাইদুর রহমান রিপন ও হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। তানজিনা রহমান নামের এক নারীর কাছ থেকে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ ব্যাংকের ৪টি সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র এবং ধার-দেনা করে মাহমুদাকে এই টাকা দিয়েছিলেন। এখন টাকা ও চেক ফেরত না পেলে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসবেন। প্রশাসনের কাছে তারা এই প্রতারক নারীর দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ভুক্তভোগীরা মাহমুদাকে যশোরের দড়াটানা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করা হলে বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিন জেলার অসংখ্য ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ: প্রতারক মাহমুদার বিরুদ্ধে তিন জেলার ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

