যশোরে ঋণের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সেই ‘প্রতারক’ জনি এবার কারাগারে

আরো পড়ুন

যশোরে চাকরি ও ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে শত শত নারীকে নিঃস্ব করা চিহ্নিত প্রতারক, সুদে কারবারি ও মামলাবাজ রফিকুল ইসলাম জনিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) যশোর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রফিকুল ইসলাম জনি যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের মো. আবু সাঈদ হাসানের ছেলে। তার অন্যতম সহযোগী জাহানারা বেগম পিয়ালী এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, জনি সদর উপজেলার শানতলা ও বকচর এলাকায় ‘গ্রুপ আর এল কোং’ নামে একটি চানাচুর কারখানা পরিচালনা করতেন। সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিশ্বস্ততা অর্জন করতেন তিনি। মামলার বাদী মুড়লী এলাকার রেশমা সুলতানা (৩৫) ওই কারখানায় কাজ করতেন। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ব্যবসার কথা বলে রেশমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেন জনি এবং নিজের প্রতিষ্ঠানের প্যাডে অঙ্গীকারনামা লিখে দেন।
পরবর্তীতে রেশমাকে স্বাবলম্বী করার কথা বলে স্বল্প সুদে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, যশোর শাখার একটি স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাঙ্ক চেক হাতিয়ে নেন জনি। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জনি উল্টো ওই ব্ল্যাঙ্ক চেক ব্যবহার করে মামলা করার হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে রেশমা সুলতানা গত ১৩ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
:
অভিযোগ রয়েছে, জনি ও তার সহযোগী পিয়ালী বকচর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে এনজিও ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯০ জন নারীর কাছ থেকে ১০ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পিয়ালী নিজেকে জনির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নারীদের প্রতারণার জালে জড়াতেন। এছাড়া অন্তত ছয়জন হতদরিদ্র নারীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক নিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার জনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ ও প্রশাসন এখন তার সহযোগী পিয়ালীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ