যশোরে সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা নেই: এলপিজি সিলিন্ডারে মিলছে না স্বস্তি, সিন্ডিকেটের কবলে সাধারণ ক্রেতা

আরো পড়ুন

যশোরে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে এলপি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হলেও যশোরের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১,৭০০ থেকে ১,৭৫০ টাকায়। শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মামুন ট্রেডার্সসহ একাধিক দোকানে ওমেরা ও যমুনা ব্র্যান্ডের গ্যাস এই চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিটি সিলিন্ডারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৩৪৪ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে ডিলাররাই গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা সিলিন্ডার প্রতি ১,৪০০ থেকে ১,৪৫০ টাকায় গ্যাস কিনছেন, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম ১,৭০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ডিলাররা গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখালেও বাস্তবে সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই বলে জানা গেছে।

শহরের পালবাড়ি এলাকার ‘মেসার্স সোনালী ট্রেডার্স’কে কেন্দ্র করে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ফসিয়ার রহমান পিএলপিজি, চেস্টা ও বেক্সিমকোসহ একাধিক কোম্পানির ডিলার হয়েও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চড়া দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, দুই মাস আগে অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল।
বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের বর্তমান দাম
* বারান্দীপাড়া (আকাশ ট্রেডিং): আগে ১,৪৭০ টাকায় কেনা গ্যাস বর্তমানে ১,৬৮০ থেকে ১,৭০০ টাকায় ঠেকেছে।
* ঢাকা রোড ও পালবাড়ি: ফিরোজ এন্টারপ্রাইজ, আকিজ ফুয়েল এবং ভেরিয়েন্ট এন্টারপ্রাইজে ১,৫০০ থেকে ১,৫৫০ টাকায় পাইকারি গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
* ভোক্তাদের পর্যবেক্ষণ: অনেক দোকানে লোকদেখানো মূল্য তালিকা (১,৩৫৬ টাকা) টানানো থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও ডিলারদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং এলপিজি গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জেলাবাসী।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ