ঝিনাইদহে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে চান্দিনা খাতুন (২২) নামে দুই সন্তানের এক জননীকে পৈশাচিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভূপতিপুর গ্রামে এই মধ্যযুগীয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আহত চান্দিনা খাতুন সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাজেদুল মন্ডলের মেয়ে। ৫ বছর আগে ভূপতিপুর গ্রামের মিন্টু চৌধুরীর ছেলে আমিরুল চৌধুরীর সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৩ ও ২ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
:
ভুক্তভোগী চান্দিনা জানান, গত বুধবার রাতে বাটন মোবাইলে অন্য কাউকে মেসেজ দেওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে স্বামী আমিরুল তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে তাকে জাপটে ধরে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেন। এরপর তাকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘরে সারারাত আটকে রাখা হয়। পরদিন প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাবার বাড়িতে খবর দিলে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
:
চান্দিনার বাবা মাজেদুল মন্ডল অভিযোগ করেন, জামাই বিদেশ যাওয়ার আগে তাকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এক মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে ফিরে তিনি পুনরায় অন্য দেশে যাওয়ার জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার মেয়ের ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালিয়ে এখন ‘পরকীয়ার’ মিথ্যা নাটক সাজানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত আমিরুল চৌধুরীর মোবাইল বন্ধ থাকলেও তার বাবা মিন্টু চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে তার ছেলে চুল কেটে দিয়েছে। তবে তার দাবি, পুত্রবধূ পরকীয়ায় লিপ্ত থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও স্থানীয়রা বা ভুক্তভোগীর পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
:
ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম জানান, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঝিনাইদহে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

