কাতারে আওয়ামী লীগ নেতা ইরফান গ্রেপ্তার: বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে গর্ভপাত ও প্রতারণার অভিযোগ

আরো পড়ুন

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বিদেশি নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা এবং জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইরফান মিয়া নামে এক প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা। অভিযুক্ত ইরফান মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের রাঙ্গিছড়া গ্রামের রইছ মিয়ার ছেলে। তিনি কাতারে নিজেকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

কাতারের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারী কাতারে বসবাসরত অন্য একটি দেশের নাগরিক। ইরফান মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে ইরফান তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন।
কাতারি আইনে গর্ভপাত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, ইরফান অবৈধভাবে ওষুধ সংগ্রহ করে ওই নারীকে সেবন করান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নারীর জীবন সংকটাপন্ন হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হওয়ায় তারা অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বিষয়টি অবহিত করে। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় পুলিশ ইরফানকে গ্রেপ্তার করে।

কাতারের পেনাল কোডের ১৫১ থেকে ১৫৩ ধারা অনুযায়ী, অবৈধ গর্ভপাত একটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা এমনকি সাজা শেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের (ডির্পোটেশন) বিধান রয়েছে। বর্তমানে ইরফান মিয়া কাতারের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
চাকরির নামে প্রতারণা ও ‘আদম ব্যবসা’
কেবল নৈতিক স্খলনই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে ইরফান মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক প্রতারণার অভিযোগও সামনে এসেছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাতারে চাকরি দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায় অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের সাথে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। লিখিত প্রশ্ন পাঠানোর এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় কাতারের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ