বেনাপোলে ভ্যানচালক মিজানুর হত্যা রহস্য: সিসিটিভি ফুটেজে নয়া মোড়, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে খুনিরা

আরো পড়ুন

যশোরের বেনাপোলে ভ্যানচালক মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পার হলেও এখনো উন্মোচিত হয়নি এর প্রকৃত রহস্য। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে ধারণা করা হলেও পুলিশের তদন্তে মেলেনি দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাড়ির সামনের মেইন গেট এবং ঘরের কলাপসিবল গেট—উভয়ই ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ফুটেজে রাত ১টার দিকে মিজানুরের মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টির কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। ভ্যানচালক মিজানুরকে ডাকতে আসার পর তার স্ত্রী ফিরোজা ভেতর থেকে কলাপসিবল গেটের তালা খুলে অন্ধকারে বেরিয়ে আসেন।
সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, সিসিটিভির অডিওতে মিজানুরের শ্বাসকষ্ট বা গোঙানির শব্দ বন্ধ হওয়ার পরপরই কাউকে নিচু স্বরে ফিসফিস করে কথা বলতে শোনা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ঘর থেকে মাত্র তিন গজের মধ্যে যখন এই নৃশংসতা চলছিল, তখন ঘরের ভেতরে থাকা তিনজন (স্ত্রী ও সন্তান) কীভাবে কিছুই টের পেলেন না?

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন দুপুরে মেয়ে বৃষ্টির সাথে মিজানুরের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মেয়ে তার বাবাকে খালি হাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এছাড়া ওই বাড়িতে এক ব্যক্তির নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘পরকীয়া প্রেম’ বা পারিবারিক কোনো গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

মিজানুর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থতার দায়ে ইতিপূর্বে বেনাপোল পোর্ট থানার সাবেক ওসি রাসেল মিয়াকে ক্লোজ করা হয়েছিল। এরপর আরও দুইজন নতুন ওসি দায়িত্ব নিলেও মামলার জট খোলেনি। বারবার কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও অধরাই থেকে গেছে মূল খুনিরা।
এ বিষয়ে বর্তমান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মানিক সাহা বলেন, “মিজানুর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
খুনিদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ