মণিরামপুরে চাঞ্চল্যকর আরিফ হত্যা: সৎ বাবা ও সহযোগী গ্রেফতার

আরো পড়ুন

যশোরের মণিরামপুরে চাঞ্চল্যকর আরিফ হোসেন (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত মূল হোতা নিহতের সৎ বাবা সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগী ফুয়াদ হাসান সৌরভকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহতের সৎ বাবা সোহেল মাহমুদ এবং মণিরামপুরের পাঁচাকড়ি গ্রামের আশরাফ সরদারের ছেলে ফুয়াদ হাসান ওরফে সৌরভ।

পুলিশ জানায়, গত পহেলা মার্চ দিবাগত রাত ১১টা থেকে ২ মার্চ ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় আরিফ হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার চিহ্ন মুছে ফেলতে মরদেহটি স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের বোন জুলিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

যশোর ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৪ মার্চ বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার ‘হোটেল হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল’ (আবাসিক) থেকে প্রধান আসামি সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগী সৌরভকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়।
হত্যার নেপথ্যে মোবাইল ও চরম ক্ষোভ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ঘাতক সৎ বাবা। পুলিশ জানায়:
: আরিফের মা তার ছেলেকে অতিরিক্ত ভালোবাসতেন, যা সোহেলের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হিংসার জন্ম দেয়।
* মোবাইলের লোভ: সম্প্রতি আরিফের মা তাকে একটি দামী মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছিলেন। ওই মোবাইলের প্রতি সোহেলের দীর্ঘদিনের লোভ ছিল।
মূলত এই পারিবারিক কলহ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং মোবাইলের লোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আরিফকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ