যশোরে ‘চালডাল’ কল সেন্টারের ৬০০ কর্মীর বেতন বকেয়া, কর্মবিরতি

আরো পড়ুন

ইভ্যালি বা অরেঞ্জ বিডির মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিতর্কের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকম’। যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারের প্রায় ৬০০ কর্মীর বেতন গত চার মাস ধরে বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া পাওনার দাবিতে বর্তমানে কর্মবিরতি পালন করছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

যশোর আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে কর্মরত একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত চার মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। কেউ কেউ দু-এক মাসের আংশিক বেতন পেলেও সিংহভাগ কর্মীর পকেট এখন শূন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী কর্মী বলেন, “আমরা কাজ করেও বেতন পাচ্ছি না। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না, মুদি দোকানের দেনা জমে গেছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে আমাদের। অথচ বেতন চাইলে উল্টো চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

রোববার সরেজমিনে আইটি পার্কের ১২ তলায় চালডালের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কাজ বন্ধ করে অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৪ তলায় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। অফিসের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, “ভেতরে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নেই।” তবে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় অফিসের ভেতরে কর্মকর্তাদের চলাফেরা করতে দেখা গেলেও তারা সাংবাদিকদের সামনে আসতে বা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্মীদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা অফিসে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ শ্রমিকদের সাথে কথা না বলে কৌশলে এড়িয়ে চলছেন।

বৈশ্বিক ট্রিলিয়ন ডলারের ই-commerce বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান যখন সংহত হওয়ার কথা, তখন চালডালের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এই “নৈরাজ্য” নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের কাছে বিশ্বস্ততার দাবি করা এই প্রতিষ্ঠানটি নিজের কর্মীদের প্রতি কতটা অমানবিক হতে পারে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়া এই ৬০০ কর্মী ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগী কর্মীরা তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ