মাধবদীতে কিশোরী হত্যা: ধর্ষণ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ গ্রেফতার ৫

আরো পড়ুন

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশের নামে টালবাহানা এবং পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মাধবদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে একদল যুবক ওই কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ রয়েছে, আহাম্মদ আলী বিচার না করে অপরাধীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
বিচারের আশা ছেড়ে দিয়ে গত বুধবার রাতে বাবা তার মেয়েকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে বখাটে নূরার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় একটি সরিষাক্ষেতে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) – ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সালিশের বিচারক।
২. মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) – আহাম্মদ আলীর ছেলে।
৩. এবাদুল্লাহ (৪০) – প্রধান অভিযুক্ত নূরার চাচাতো ভাই।
৪. মো. আইয়ুব (৩০)।
৫. গাফফার (৩৪)।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মূল অভিযুক্ত নূরসহ বাকিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা নিহতের পরিবারের পাশে আছি।”
পুলিশের বক্তব্য
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত নূরাসহ পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ