নরসিংদীতে কিশোরী হত্যা: মূলহোতা নূরাসহ গ্রেফতার ৭,

আরো পড়ুন

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও গণ-অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রাবি) বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এদিকে, পুলিশ এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূরাসহ এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক নিশ্চিত করেছেন যে, কিশোরী হত্যার মূল হোতা নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুর থেকে এবং অন্য এক অভিযুক্ত হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ১. নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (মূল হোতা)
২. হযরত আলী
৩. আহাম্মদ আলী দেওয়ান (সাবেক ইউপি সদস্য ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা)
৪. মো. ইমরান দেওয়ান
৫. গাফ্ফার
৬. এবাদুল্লাহ
৭. মো. আইয়ুব।

কিশোরী হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা:
* ডাকসুর বিক্ষোভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতারও বিচার দাবি করেন।
* জকসুর মিছিল: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করে।
* রাবি ও ইবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
* খায়রুল কবির খোকন (এমপি): নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “অপরাধীর কোনো দল নেই, আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।”
* হাসনাত আবদুল্লাহ (এমপি): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অপরাধীদের এবং তাদের প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনতে আলটিমেটাম দেন।
* জামায়াতে ইসলামী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি তুলেছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি কিশোরীটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতা আহাম্মদ আলী দেওয়ান সালিশের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিচার না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত বুধবার রাতে মেয়েটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পথে বাবার সামনে থেকেই তাকে অপহরণ করে বখাটেরা, যার পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৫ জনকে ইতিমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ