নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার সামনে থেকে অপহরণের পর কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বখাটে নূরা ১৫ দিন আগে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার বিচারের জন্য মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ রয়েছে, আহাম্মদ আলী বিচার না করে উল্টো অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেন।
বিচার না পেয়ে গত বুধবার রাতে বাবা তার মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে একদল বখাটে বাবার সামনে থেকেই কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি সরিষাখেত থেকে ওই কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মাধবদী থানায় মামলা করেন নিহতের মা। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে অন্যতম আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, মামলার পর থেকেই পুলিশ অভিযানে নামে। বৃহস্পতিবার রাতে সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে মামলার ১ নম্বর আসামি নূরাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
১. নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (প্রধান অভিযুক্ত)
২. আহাম্মদ আলী দেওয়ান (সাবেক ইউপি সদস্য ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা)
৩. ইমরান দেওয়ান
৪. এবাদুল্লাহ
৫. আইয়ুব
৬. গাফফার
ওসি আরও জানান, মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

