তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকারি সহায়তা প্রদানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে।
শুক্রবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে এই টিমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং দুইজন সমাজসেবক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকারভোগীদের যথার্থতা যাচাই করা হবে, যাতে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।
রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “একটি রাষ্ট্র কতটা আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র অর্জন করেছে, তা নির্ভর করে তার সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর।” তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তাদের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন:
* ডাটাবেস সিস্টেম আধুনিকায়ন করতে হবে।
* সঠিক ডাটাবেস ছাড়া নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ অসম্ভব।
* তথ্যের যথাযথ সংরক্ষণ ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশালের স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকীকরণ
বরিশালকে ‘দক্ষিণ বাংলার রাজধানী’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
এই সংকট নিরসনে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন:
১. শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা।
২. বরিশালে একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা।
উপস্থিতিবৃন্দ
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।?

