দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্টে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের হয়রানি ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আশিষের বিরুদ্ধে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং ব্যাগ তল্লাশির নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি এক নারী যাত্রীকে হয়রানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে (ভাইরাল) বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী রাশিদা খাতুন (পাসপোর্ট নং এ-১৪৪৬৫৯৪) জানান, তিনি তার শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছিলেন। ফেরার পথে কাস্টম তল্লাশি কেন্দ্রে এআরও আশিষ তাদের গতিরোধ করেন। রাশিদা খাতুনের দাবি, তার কাছে সাধারণ কিছু কসমেটিকস, খাদ্যপণ্য ও দুটি শাড়ি ছিল। কিন্তু ওই কর্মকর্তা এগুলোকে কেন্দ্র করে তাকে মানসিক চাপ দেন এবং অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করেন।
রাশিদা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, “আমি কোনো প্রকার সমঝোতা বা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার ওপর চড়াও হন এবং অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন। শেষ পর্যন্ত আমার সব মালামাল ডিএম (আটক) করে একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে আমাদের বের করে দেন।”
ভাইরাল ভিডিও ও জনরোষ
উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে ওই কর্মকর্তার অপেশাদার ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ দেখে সাধারণ মানুষ ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ভিসা জটিলতার কারণে বর্তমানে বেনাপোল দিয়ে যাত্রী পারাপার প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এমন নাজুক সময়ে মুষ্টিমেয় যে কজন যাত্রী যাতায়াত করছেন, তাদের সাথে আন্তর্জাতিক টার্মিনালে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের এমন আচরণ দেশের পর্যটন ও ভাবমূর্তিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া সম্ভব। সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত এআরও আশিষের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আশিষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।।

