ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে পাচার হওয়া ২৮ বাংলাদেশি শিশু-কিশোর দীর্ঘ ২ থেকে ৮ বছর পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসাদের মধ্যে ১৭ জন শিশু এবং ১১ জন কিশোর রয়েছে, যাদের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। তারা যশোর, খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভালো কাজের আশায় বা দালালের খপ্পরে পড়ে তারা অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল। সেখানে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সেফ হোমে (শেল্টার হোম) তারা দীর্ঘকাল বন্দি ছিল। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘ চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্টে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় উপস্থিত ছিলেন:
* ফজলে ওয়াহিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), শার্শা।
* নিয়াজ মাখদুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি), শার্শা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের তিনটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংস্থাগুলো হলো:
রাইটস যশোর: ১০ জন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার: ১০ জন।বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি: ৮ জন।
কাউন্সিলিং ও আইনি সহায়তা
বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা এই শিশু-কিশোরদের বর্তমানে এনজিওগুলোর নিজস্ব শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের মানসিক কাউন্সিলিং প্রদান করা হবে যেন তারা ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
পাচার প্রতিরোধে কর্মরত সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ফিরে আসা এই শিশু-কিশোররা চাইলে পাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মোট সংখ্যা: ২৮ জন (শিশু ১৭, কিশোর ১১)* বন্দিজীবনের মেয়াদ: ২ থেকে ৮ বছর।* ফেরার মাধ্যম: বিশেষ ট্রাভেল পারমিট।* বর্তমান অবস্থান: এনজিও শেল্টার হোম।

