দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র যশোরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শুধুমাত্র যশোর-৩ (সদর) আসনে কোনোমতে জয় ধরে রাখতে পেরেছে বিএনপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল যশোরের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একনজরে যশোরের নির্বাচনী ফলাফল
যশোরের ৬টি আসনের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ও বিজয়ীদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| নির্বাচনী এলাকা | বিজয়ী প্রার্থী ও দল | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী | ভোটের ব্যবধান |
যশোর-১ (শার্শা) | মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (জামায়াত) | নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি) | ২৫,০০০+ || যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) | মো. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (জামায়াত) | বিএনপি প্রার্থী | ৩৫,০০০+ |
|যশোর-৩ (সদর) | অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি) | জামায়াত প্রার্থী | ১৪,০০০ |
| যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) | গোলাম রসুল (জামায়াত) | বিএনপি প্রার্থী | ৪৫,০০০ |
| যশোর-৫ (মণিরামপুর) | গাজী এনামুল হক (জামায়াত) | শহীদ মো. ইকবাল (স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী) | ৪৭,০০০ |
| যশোর-৬ (কেশবপুর) | অধ্যাপক মুক্তার আলী (জামায়াত) | বিএনপি প্রার্থী | ১২,০০০ |
> বিশেষ দ্রষ্টব্য: যশোর-৫ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী রশীদ আহমাদ তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন, যা দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতার চরম বহিঃপ্রকাশ।
>
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির এই ভরাডুবির পেছনে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
* মনোনয়ন জটিলতা ও তৃণমূলের অবমূল্যায়ন: যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করা এবং শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
* অভ্যন্তরীণ কোন্দল: গ্রুপিং নিরসনে কেন্দ্রীয় বা জেলা কমিটির ব্যর্থতা নির্বাচনের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
* অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস: বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল জয় নিশ্চিত, ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় তারা জামায়াতের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
* জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল: জামায়াতের সুশৃঙ্খল ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণার কৌশল মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।?
যশোর-১ (শার্শা) আসনের চিত্রটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকটের একটি প্রতিচ্ছবি। প্রথমে মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দেড় মাস পর তা পরিবর্তন করে নুরুজ্জামান লিটনকে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তৃপ্তি ও অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান জহিরের সমর্থকরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ফলে নিশ্চিত জয়ের এই আসনটিতে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতে যান জামায়াত প্রার্থী।
যশোর-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জয় পেলেও তা ছিল অত্যন্ত ঘামঝরানো লড়াই। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এই নির্বাচনে যশোরে নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছে, বিপরীতে বিএনপির নড়বড়ে সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার এখন সময়ের দাবি

