শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘যমুনা’ (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় ও শাহবাগ এলাকা। পুলিশি বাধা ও সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে পদযাত্রা শুরু করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ফাতেমা তাসনিম জুমা, শান্তা আক্তার ও সালাউদ্দীন আম্মারসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
* গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি: ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সদস্যসচিব জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও ঢামেক পরিচালক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি, তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে।
* সরকার ও পুলিশের বক্তব্য: ডিএমপি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশ কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘তিনজন নিহতের’ খবরকে তারা ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছে।
সরকারের অবস্থান ও তদন্তের আশ্বাস
নির্বাচনের আগমুহূর্তে এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সরকার জানিয়েছে, শহীদ হাদি হত্যার বিচারে তারা বদ্ধপরিকর। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সরকার।।।

