নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর যশোরের কেশবপুরে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে এক প্রবাসীর বসতবাড়ি ভাঙচুর, ফসল লুট ও গাছপালা কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেশবপুর উপজেলার চাঁদড়া গ্রামের বাসিন্দা নূর ইসলাম এই অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত আবুল কাশেম কেশবপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে নূর ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আবুল কাশেম তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ৫০–৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা নূর ইসলামের বসতঘর ভাঙচুর করে এবং দুই বিঘা জমির সরিষা ক্ষেত কেটে আলমসাধু ও ভ্যানে করে লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া বসতভিটার আশপাশে লাগানো ১০টি শিশু গাছ, ৫টি মেহগনি গাছ, ১০টি নারিকেল গাছ এবং প্রায় ১০০টি বাঁশ কেটে নিয়ে গেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
নূর ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা হামলা চলাকালীন বাধা দিতে গেলে পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এতে ১০–১২ জন নারী আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুই নারীকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে অভিযুক্তদের হুমকির মুখে পরিবারটি গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নূর ইসলামের পুত্রবধূ নার্গিস, ভাই মুনতাজ, ভাইয়ের স্ত্রী কমলা এবং মুনতাজের পুত্রবধূ মৌসুমি উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কেশবপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

