১৯৫২ সালের আজকের এই দিনটি ছিল বাঙালির ইতিহাসের এক অগ্নিগর্ভ মোড়। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন এদিন আবারও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বাঙালির ক্ষোভকে তুঙ্গে পৌঁছে দেন। যা শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই অমর আত্মত্যাগের পথ প্রশস্ত করেছিল।
১০ দিনের পূর্ব পাকিস্তান সফর শেষে ১৯৫২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গবর্নমেন্ট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রভাষা একটিই হবে এবং তা হবে উর্দু।
তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উচ্চারণ করেন:
> “আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হতে চলেছে, অন্য কোনো ভাষা নয়। তবে এটি যথাসময়ে কার্যকর হবে।”
খাজা নাজিমুদ্দীনের এই অনড় অবস্থান বাংলার ছাত্র-জনতাকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে। শুধু ভাষা নয়, বাঙালি বুঝতে পেরেছিল এই আঘাত সরাসরি তাদের সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার ওপর। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিকে তিনি সরাসরি নাকচ করে দিলে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানি শাসকদের এই গোঁয়ার্তুমি ও স্পর্ধার মুখে বাঙালি দমে যায়নি; বরং আরও সুসংগঠিত হওয়ার প্রেরণা পায়। বিশেষ করে ছাত্রসমাজ মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হয়। ৩ ফেব্রুয়ারির এই হুংকারই মূলত ২১ ফেব্রুয়ারির রাজপথ রঞ্জিত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিল।
সেদিনের সেই নতুন শপথের পথ ধরেই সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারদের রক্তে শিমুল-পলাশের মতো ঝরে পড়েছিল বাঙালির অধিকারের বিজয়গাঁথা। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে তাই ৩ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনাপ্রবাহ আজও এক কালজয়ী অধ্যায় হয়ে টিকে আছে।?

