নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
মৃত্যুঝুঁকি ও পরিসংখ্যান আইইডিসিআর জানায়, ২০২৪ সালে দেশে ৫ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকেই মারা গেছেন। অর্থাৎ এই রোগে মৃত্যুহার শতভাগ ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর গড় হার প্রায় ৭২ শতাংশ। সভায় জানানো হয়, ২০২৩ সালেও ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল।
সংক্রমণের প্রধান কারণ আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করাই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে অন্যের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই রোগের কোনো কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও নজরদারি আইসিডিডিআর,বি-র বিজ্ঞানী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে জরুরি পরামর্শ
সভায় বিশেষজ্ঞরা জনসাধারণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন:
* কাঁচা রস বর্জন: কোনোভাবেই কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না।
* ফল খাওয়ায় সতর্কতা: পাখির আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
* পরিচ্ছন্নতা: ফলমূল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
* সাবধানতা: আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।
* দ্রুত চিকিৎসা: রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিপাহ ভাইরাসের ছোবল: ৩৫ জেলায় সংক্রমণ, মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ

