বেনাপোল বন্দরে কাঁচামাল সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’: শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালানে কোটিপতি শামীম-উজ্জ্বল

আরো পড়ুন

বেনাপোল স্থলবন্দরের কাঁচামাল আমদানিতে আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ‘গাজী শামীম’ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, স্বর্ণ চোরাচালান এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল দিঘীরপাড় এলাকার জনৈক গাড়িচালকের ছেলে শামীম ওরফে গাজী শামীম একসময় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ‘গাজী এক্সিম’ নামে লাইসেন্স খুলে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় শুল্ক ফাঁকির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। মাত্র কয়েক বছরেই তিনি বেনাপোল ও যশোরে একাধিক আলিশান বাড়িসহ কয়েকশ কোটি টাকার
অনুসন্ধানে জানা যায়, শামীমের এই অবৈধ সাম্রাজ্যের অন্যতম অংশীদার হচ্ছেন উজ্জ্বল বিশ্বাস (মেসার্স উৎস এন্টারপ্রাইজ) ও শাহজাহান আলী (মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ)। অভিযোগ রয়েছে, তাদের আমদানিকৃত ফলের ট্রাকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক স্বর্ণ এবং মরিচের ট্রাকে বিজিবি কর্তৃক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। এক সময়ের সাধারণ দোকানি উজ্জ্বল হোন্ডি ও স্বর্ণ ব্যবসার মাধ্যমে শামীমের সাথে হাত মিলিয়ে:
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পালের সাথে এই সিন্ডিকেটের গভীর সখ্যতা রয়েছে। শামীমের দুই সহযোগী তৌহিদ ও শুভর মাধ্যমে কাঁচামাল মাঠের সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আমদানিকারক জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পণ্য পরীক্ষণ ছাড়াই রিপোর্ট প্রদান করেন। অন্যদিকে, সাধারণ ব্যবসায়ীরা ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে তাদের পণ্য চালান আটকে দেওয়া হয় এবং গাড়ি থেকে সব মালামাল নামিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখানো হয়। এই বিশেষ ‘টিআর’ (ট্যাক্স রেগুলেশন) সুবিধার কারণে সরকার প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুল্ক ফাঁকির টাকায় শামীম ও উজ্জ্বল সম্প্রতি প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে নতুন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স (গাজী এক্সপ্রেস ও উৎস শিপিং লাইন্স) ক্রয় করেছেন। তাদের বেনামি সম্পদ ও লাইসেন্সের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও এই চক্রের প্রভাব কমেনি, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে গাজী শামীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আবু হোসেন মোহাম্মদ খালিদের সাথে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
> সারসংক্ষেপ: বেনাপোল বন্দরের কাঁচামাল আমদানিতে একটি নির্দিষ্ট চক্রের একচ্ছত্র আধিপত্য ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে শুল্ক ফাঁকির মহোৎসব চলছে, যা বন্দরের সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে

আরো পড়ুন

সর্বশেষ