একদিকে প্রিয় নেতা তারেক রহমানের লন্ডন ত্যাগ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে তাকে বরণ করে নিতে যশোর থেকে নেতা-কর্মীদের ট্রেন যোগে ঢাকা যাত্রা— এই দুই ঘটনার মিলনে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যশোরে। বুধবার রাতে যশোর রেলওয়ে স্টেশন যেন পরিণত হয়েছিল একখণ্ড রাজনৈতিক উৎসবে।
রাত ১০টার পর থেকেই যশোরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত নেতা-কর্মী যশোর স্টেশনে জড়ো হতে শুরু করেন। কারো হাতে জাতীয় পতাকা, কারো গায়ে ধানের শীষ সংবলিত পোশাক। পুরো স্টেশন চত্বর স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। “তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে” কিংবা “মা মাটি ডাকছে, তারেক রহমান হাসছে”— এমন সব স্লোগানে এক অনন্য উদ্দীপনা তৈরি হয় নেতা-কর্মীদের মাঝে।
নেতা-কর্মীদের বিদায় জানাতে এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে স্টেশনে উপস্থিত হন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তিনি নেতা-কর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং বলেন,
“দলের এই ঐক্য ও স্পিরিটই বিএনপির আসল শক্তি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে আমাদের সবাইকে রাজপথে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
রাত ঠিক ১২টা ৫ মিনিটে বিশেষ ট্রেনটি যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে হুইসেল বাজিয়ে চলতে শুরু করে, তখন প্ল্যাটফর্মে তৈরি হয় এক আবেগঘন দৃশ্য। অনেক নেতা-কর্মীর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা হাত নেড়ে তাদের বিদায় জানান। কারো চোখে আনন্দাশ্রু, আবার কারো কণ্ঠে ছিল প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার দৃঢ় প্রত্যয়।
যশোরের নেতা-কর্মীদের মতে, বুধবার রাতের এই গণযাত্রা কেবল একটি ট্রেন ভ্রমণ নয়, বরং এটি বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।

