নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবারের বিজয় দিবস অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘ শাসনের অবসানের পর এক নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় উদ্যাপিত হচ্ছে বিজয়ের এই ৫৪ বছর।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে যাত্রার স্বপ্ন দেখছে সাধারণ মানুষ। এবারের বিজয় দিবস তাই কেবল উদ্যাপন নয়, বরং শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার নতুন শপথের দিন।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও শ্রদ্ধা নিবেদন
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়াও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিশ্বরেকর্ড ও বিশেষ আয়োজন
এবারের বিজয় দিবসের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং’ প্রদর্শনী।
* ফ্লাই-পাস্ট: তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফ্লাই-পাস্ট এবং বিশেষ ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হবে।
* স্কাইডাইভ: ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের ৫৪তম বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশাল জাতীয় পতাকা নিয়ে স্কাইডাইভ করবেন, যা বিশ্বরেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত হয়েছে।
সারাদেশে উৎসবের আমেজ
* বিজয় মেলা: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা শুরু হচ্ছে।
* সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের গান এবং ৬৪ জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশিত হবে।
* অন্যান্য: সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং দেশের প্রধান নৌ-বন্দরগুলোতে নৌবাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
একইসাথে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও নির্বাচনী আমেজে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত

