যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মসজিদের মুয়াজ্জিমকে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত মনিরুজ্জামান (তোরাব মোল্লার ছেলে, আন্দুলবাড়িয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জেম) বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত মুয়াজ্জিম মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের ধলগ্রাম ইউনিয়ন সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য পলাশ এবং যুবলীগ নেতা রাজু প্রকাশ্যে তার ওপর হামলা চালায়।
মনিরুজ্জামান জানান, গত রোববার (সময় উল্লেখ নেই) বিকেল ৫টার দিকে তিনি সাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় একই গ্রামের রাজু ও পলাশ তার পথরোধ করে এবং কোনো কিছু বোঝার আগেই পেছন দিক থেকে হাতুড়ি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
মুয়াজ্জিম মনিরুজ্জামানের পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মনিরুজ্জামানের আপন দুই চাচা উথান মোল্লা ও এরশাদ মোল্লা তার পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেন। এই দখল কার্যক্রমে তারা রাজু ও পলাশকে ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি স্থানীয় শালিশের মাধ্যমে জমিটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও রাজু ও পলাশ তাতে বাধা দেন।
মনিরুজ্জামানের দাবি, এই জমি সংক্রান্ত বিবাদ ও দখলমুক্ত করার প্রচেষ্টার জেরেই তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় তার বাবার দুই পা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মুয়াজ্জিম মনিরুজ্জামানের ছেলে শফিকুল ইসলাম জানান, যুবলীগ নেতা রাজু ও সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ এলাকায় সাবেক এমপি পুত্র যুবলীগ নেতা রাজিব রায়ের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। শফিকুল আরও অভিযোগ করেন, তারা এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াতো এবং চাচাদের যোগসাজশেই তাদের জমি দখলে নিয়েছিল।
শফিকুল ইসলাম অবিলম্বে এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার হাসিবুর নিশ্চিত করেছেন যে, আহত মনিরুজ্জামানের পা, ঘাড় এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
তবে, এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদুল হাসান বলেন, “এই বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য পাইনি বা আমাদের জানা নেই। মুয়াজ্জিমকে হাতুড়ি পেটার ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেননি।”ল?

