যশোরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিশেষত শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫) যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিলের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শুধু এই স্থানটিতেই নয়, রাত ১০টার পর থেকে পুরো শহর জুড়ে শুরু হয় কঠোর তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিশেষ অ্যাকশন।
পরিস্থিতি তদারকি ও পুলিশি কার্যক্রমের গতি বাড়াতে গভীর রাতে সাদা পোশাকে নিজেই মাঠে নামেন যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। রাত ১১টার পর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় তাঁকে সরাসরি উপস্থিত থেকে পুলিশ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়। তাঁর নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিট একযোগে এই তল্লাশি কার্যক্রমে অংশ নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুম্মার নামাজের পর চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যুবলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ওই এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়।
এছাড়া, সিভিল কোর্ট মোড়, নিউমার্কেট, মনিহার এবং গরীবশাহ মোড়সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয় একাধিক তল্লাশি চৌকি। এসব চৌকিতে প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়, মোটরসাইকেল আরোহীদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গরীবশাহ রোডে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসারকেও সরাসরি তল্লাশি কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। পুলিশ এই কাজে একনিষ্ঠভাবে মাঠে রয়েছে। শুধুমাত্র শহর নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো জেলা জুড়েই এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
গভীর রাতে যশোরজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

