যশোরে বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনায় পাঁচ দিন পরও ব্যবস্থা নেই, বহাল তবিয়তে জড়িতরা

আরো পড়ুন

যশোর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমে গুরুত্বপূর্ণ বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্ত নকল নবিশরা বহাল তবিয়তেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে রেজিস্ট্রি অফিসের নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর যশোরের ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৯৯৩ সালের ৮৬৮ নম্বর দলিলের নকল তুলতে এসে দেখা যায়, মূল বালাম বইয়ে দাগ নম্বর ৫৮০-এর স্থানে টেম্পারিং করে ৫৮৪ নম্বর করা হয়েছে। নকল নবিশ সাজ্জাদুল ইসলাম রেকর্ড রুম থেকে বালাম বইটি নিয়ে আসেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাব রেজিস্ট্রি অফিসজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
নকল নবিশ সাজ্জাদুল ইসলাম টেম্পারিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলেও অফিসের একাধিক সূত্র দৈনিক গ্রামের কাগজকে জানিয়েছে, গত ২৫ নভেম্বর অপর নকল নবিশ তরিকুল ইসলাম ওই বালাম বইটি বের করেন। সূত্রগুলোর দাবি, সাজ্জাদুল এবং তরিকুল মিলেই এই টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এই ঘটনা নিয়ে গত ২ ডিসেম্বর দৈনিক ‘গ্রামের কাগজ’ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি জেলা রেজিস্টার এবং সাব-রেজিস্ট্রারের নজরে আসে। অফিস সূত্রে খবর, সাব রেজিস্টার আমেনা বেগম বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত নকল নবিশ সাজ্জাদুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলামের বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা রেজিস্টারকে অবহিত করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এই গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত দুই নকল নবিশ এখনো বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ কর্মচারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রেকর্ড রুমের বালাম বইসহ অন্যান্য নথিপত্র চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অফিসের একাধিক সূত্র গ্রামের কাগজকে জানিয়েছে, বালাম টেম্পারিংয়ের ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বালাম টেম্পারিং, বালামের পাতা ছেঁড়া, প্রকৃত জমির মালিকের নাম পরিবর্তন করা, ওভাররাইটিংয়ের মাধ্যমে বালাম বই আটকে রাখাসহ নানা রকম অনিয়ম চলে আসছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতরা সনাক্ত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক সময় তদন্ত শুরু হলেও পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো ভুক্তভোগী মানুষ রেজিস্ট্রি অফিসে এসে দলিল টেম্পারিং হওয়া নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং কেন তাদের নকল দেওয়া হবে না, সেই প্রশ্ন তোলেন। দিনের শেষে হতাশা নিয়েই তাদের ফিরে যেতে হয়। আর এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে যান। তাদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত হলে এসব দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের অর্থ-সম্পদের তালিকাও বেরিয়ে আসবে।
এদিকে, এই বিষয়ে গতকাল (৬ ডিসেম্বর, ২০২১) জেলা রেজিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছুটিতে থাকার কারণে তিনি বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হতে পারেননি। তবে দ্রুতই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন কি?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ