বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশের ‘নতুন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস’ সৃষ্টি হবে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঝালকাঠির নেছারাবাদ মাহফিল ময়দানে বাংলাদেশ হিযবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীন আয়োজিত এক জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে আমিরের বক্তব্য:
ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক। তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে জনগণের প্রতিনিধিই নির্বাচিত হবে। কোনো ধরনের পেশিশক্তি কিংবা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কেউ যদি ভোট কাটার চেষ্টা করে, জনগণ তাকে প্রতিহত করবে।”
তার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস রচিত হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “অতীতের মতো কেউ যদি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, “সব জুলুম, ফ্যাসিবাদ এবং জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। ইসলামের পক্ষে শক্তিগুলোকে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
অন্যান্য ইসলামী দলের নেতাদের আহ্বান:
সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো যদি এক হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তবে দেশ নতুন ইতিহাসের পথে এগিয়ে যাবে। তার মতে, ঐক্যবদ্ধ ভোটের শক্তিই পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি।
অন্যান্য বক্তারা, যেমন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিদ আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, একমত পোষণ করেন যে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো এক হতে পারলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
তারা বলেন, জনগণই নির্ধারণ করবে দেশ কোন পথে এগোবে এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিগুলোই সেই পথে নেতৃত্ব দেবে।
নেছারাবাদী হুজুর মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশাল সম্মেলনে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। এই প্রতিনিধি সম্মেলনটি নেছারাবাদ দরবার শরীফের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির অংশ ছিল
নতুন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস’ সৃষ্টি হবে আগামী নির্বাচনে: জামায়াতে আমির

