যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ফেসবুক থেকে শুরু হওয়া পরকীয়ার জেরে ভেঙে গেল এক স্বর্ণকারের ১৬ বছরের সুখের সংসার। ১২ বছরের কন্যা সন্তানের জননী, অসম্ভব সুন্দরী ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দুই সন্তানের জনক এক পরকীয় প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধতে চাওয়ায় এই বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।
যেভাবে শুরু হয় পরকীয়া
উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হরিদাসকাঠি গ্রামের কর্মকার পাড়ার স্বর্ণকারের স্ত্রী প্রায় দেড় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভয়নগরের সমসপুর গ্রামের দুই সন্তানের জনক রাকেশ হৃদয়কে (ত্রিশোর্ধ্ব) ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান।
স্বামীর জুয়েলার্সের ব্যবসা হাজিরহাট বাজারে থাকায় তিনি সকালে কাজে যেতেন এবং রাতে ফিরতেন। এই সুযোগে গৃহবধূ ও রাকেশের মধ্যে হাই-হ্যালো দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ক দ্রুতই গভীর হতে থাকে। প্রযুক্তির কল্যাণে দিন-রাত চলতে থাকে ফোনে চ্যাট, এবং একপর্যায়ে দু’জনে জড়িয়ে পড়েন এক অন্ধকার গন্তব্যহীন সম্পর্কে।
হাতে-নাতে ধরা: অতঃপর সালিশ
সম্প্রতি হাজিরহাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। অভিযোগ ওঠে, এই সুযোগে গত শনিবার সন্ধ্যার পর ওই গৃহবধূ তাঁর প্রেমিক রাকেশকে বাড়িতে ডেকে আনেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্বামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফিরে এসে দেখেন, ঘরের মধ্যে স্ত্রী ও প্রেমিক রাকেশ আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই স্বামী ঘরের দরজায় তালা মেরে দেন।
পরদিন রোববার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তালা খুলে প্রেমিক রাকেশসহ স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে আনা হয় এবং তাদের বেঁধে মারপিট করা হয়। এ সময় বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
সালিশে বিচ্ছেদ
পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজিরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিকাশ রায়, হরিদাসকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জামান আজাদ-সহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিকাশ রায় জানান, সালিশে গৃহবধূ স্পষ্টভাবে স্বামীর সাথে আর সংসার না করার কথা জানান এবং প্রেমিক রাকেশকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে স্বামী বলেন, “আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। এই কলঙ্কিনী স্ত্রীর সাথে আমি আর সংসার করতে চাই না।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাকেশ এবং ওই গৃহবধূর অভিভাবকদের (পিতা ও ভাই) খবর দেওয়া হয়। বিকেল নাগাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নবিরুজ্জামান আজাদ জানান, গৃহবধূ, তাঁর স্বামী এবং প্রেমিক রাকেশের কাছ থেকে একটি সম্মতিপত্রে (স্ট্যাম্প) স্বাক্ষর নিয়ে তাদের স্ব-স্ব অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

