সংবাদকর্মীর মোবাইল ছিনিয়ে নিলেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা

আরো পড়ুন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও দালাল নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, নামজারি, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর হোল্ডিং অনুমোদন, এমপি ১৪৪-১৪৫ মামলার প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে সরকারি ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের। এসব লেনদেন মূলত রাতেই হয়ে থাকে, যা তার নিজস্ব দালালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, কিছু দালালের মাধ্যমেই কর্মকর্তার টেবিলে ফাইল পৌঁছায়। দালালদের টাকা না দিলে অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। কাউখালি গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, “জাহিদ তশিলদার একর প্রতি ৫ হাজার টাকা নেন। সরকারি খাস জমির ভয় দেখিয়ে কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বলেন, “আমাদের ঘেরের বাধ কেটে দিয়ে অন্য লোকের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে অফিসে আসতে বলেছেন।”

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গেলে নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি মাহমুদ হাসান অভিযোগের সত্যতা পান। তিনি জানান, আল-আমীন নামে এক দালালের মাধ্যমে ভূমি কর্মকর্তা টাকা নিচ্ছিলেন। বিষয়টি ভিডিও করার সময় কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। বিজয় টেলিভিশনের প্রতিনিধি একেএম রাকিব হোসাইনও এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি বলেন, ভিডিও ধারণের সময় কর্মকর্তা শুধু মোবাইল ছিনিয়ে নেননি, বরং দালালদের ডেকে অফিসের মূল গেট তালাবদ্ধ করারও চেষ্টা করেছিলেন।

ভূমি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সরি ভাই, আমার ভুল হয়ে গেছে। মানুষ মাত্রই ভুল করে।”

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার জানান, সাংবাদিক মাহমুদ হাসানের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন, তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ