গুরুতর অসদাচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমানের দলের সকল পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জেলা বিএনপি কর্তৃক নেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে সকল নেতা-কর্মীর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে।
পদ স্থগিতের কারণ ও অভিযোগ
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হলো তার গুরুতর অসদাচরণ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে বিএনপির কোনো কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট করা যাবে না এবং তার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না। বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক সাধারণ সম্পাদকের চলতি দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খলিলুর রহমান বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং দখলদারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দলের অনেক নেতাকর্মীও তার হয়রানির শিকার হয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির মাধ্যমে খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মোট ১২টি লিখিত অভিযোগ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জমা পড়েছিল। এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির কঠোর বার্তা
একই বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপি দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনগত ব্যবস্থা নেয়, সে ক্ষেত্রে দলের কোনো নেতা যদি অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও, দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনো কাজের সঙ্গে যদি কোনো নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে বিএনপিতে তার কোনো স্থান থাকবে না।
এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ব্যাপারে খুবই কঠোর এবং কোনো অন্যায় বা শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপকে ছাড় দেবে না।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা

