যশোরে ভুয়া চিকিৎসকের কারসাজি: ‘আজব ডিগ্রি’ দেখিয়ে চিকিৎসা

আরো পড়ুন

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রাজাপট্টিতে এক ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে। তার নাম মন্টু। একসময় তিনি অর্থোপেডিক সার্জন ডা. আব্দুর রউফের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এখন নিজেই ডাক্তার সেজে রোগী দেখছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে মন্টু ডা. রউফের চেম্বারে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় ১৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর গ্রামে ফিরে দাবি করতে থাকেন যে তিনি শহরে ডাক্তারি শিখে এসেছেন। এরপর থেকেই রাজাপট্টিতে নিয়মিত রোগী দেখা শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখলেও প্রশাসনের অভিযানে জরিমানার পর তা বাদ দেন। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

বর্তমানে তিনি ‘ডক্টরস এক্সরে অ্যান্ড থেরাপি সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বসে রোগী দেখছেন। সাইনবোর্ডে নিজের নাম লিখেছেন মন্টু (ডিএমএফ) এবং দাবি করছেন হাড়ভাঙা, জোড়া লাগানো, বাত ব্যথা ও থেরাপি চিকিৎসায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের এক্সরে করার অনুমতি নেই। এ কাজ কেবল অনুমোদিত এক্সরে টেকনিশিয়ান করতে পারেন এবং এর জন্য পারমাণবিক কেন্দ্রের অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। মন্টুর প্রতিষ্ঠানে এসব অনুমোদনের কোনো অস্তিত্ব নেই।

অভিযোগ রয়েছে, মন্টু মূলত একজন গ্রাম ডাক্তার। কিন্তু নিজেকে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছেন। অনেক রোগী তার অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগী রেফার করে মোটা অঙ্কের কমিশনও নিচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে মন্টু বলেন, তিনি একজন গ্রাম ডাক্তার এবং বহু বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার কাগজপত্র দেখানোর অনুরোধ জানালে তিনি জানান, “কাগজপত্র দেখার কিছু নেই, সব ঠিক আছে। আমার সার্টিফিকেট দিয়েছেন ডা. রউফ।”

ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, “ওই প্রতিষ্ঠান চালানোর কোনো সুযোগ নেই। এর আগেও স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়েছে। এরপরও যদি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়, মন্টুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ