কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় প্রেমিক যুগলের সঙ্গে ধস্তাধস্তির জেরে এক দারোয়ানকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, কুমিল্লার চান্দিনা পল্লী বিদ্যুৎ রোডের একটি বাড়ির নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন মাকসুদা আক্তার খুকি নামে এক নারী, যিনি স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে কর্মরত। তার বড় বোন রত্না বেগম ও ভাগ্নে আহাদ মিয়া (১৭) কাছাকাছি কোরপাই সাদাত জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
কাজের সূত্রে মিলের আরেক নারী শ্রমিক ফেরদৌসী আক্তার (২০)-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আহাদ। ১৬ আগস্ট রাত ৮টার দিকে খালা বাড়িতে না থাকায় প্রেমিকা ফেরদৌসীকে বাসায় নিয়ে আসেন আহাদ। পরে তারা বাড়ির ছাদে ওঠেন।
এ সময় বাড়ির দারোয়ান সোহেল মিয়া ছাদে উঠে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন সোহেল।
তাকে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১৮ আগস্ট সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত সোহেল মিয়া (২৬) কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর (গজারিয়া) গ্রামের ইমতিয়াজ মিয়ার ছেলে। তিনি চান্দিনার ইসলাম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানে দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা চিকিৎসা শেষ করে থানায় অভিযোগ জানাবেন। তবে ১৮ আগস্ট সোহেলের মৃত্যুর পর নিহতের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মামলা করবেন না।”

