থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছিল সচেতনতামূলক সেমিনার, স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিনামূল্যে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস পরীক্ষা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন ও কাস্টমস ক্লাব বেনাপোলের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ও কাস্টমস ক্লাবের সভাপতি খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য ও সিভিসিএস লিমিটেডের উপদেষ্টা ড. এস এম হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের মানবিক উদ্যোগ জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।”
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিয়া ইসলাম। তিনি রোগটির বংশগত প্রকৃতি, বিবাহ-পূর্ব স্ক্রিনিং, জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং নিয়মিত রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ, বেনাপোল সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ শামছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা। বক্তারা প্রি-ম্যারিটাল স্ক্রিনিংকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া, বাহক শনাক্তকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত রক্তদানের ওপর জোর দেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে প্রশ্নোত্তর পর্ব, ব্রোশার বিতরণ এবং বিনামূল্যে স্ক্রিনিংয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, বন্দর ও সীমান্তঘেঁষা এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের কর্মসূচি চালানো হবে।
ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বলেন, বিবাহের আগে দম্পতিদের স্ক্রিনিং এবং নিয়মিত রক্তদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। একই প্ল্যাটফর্মে সেমিনার, রক্তদান ও স্ক্রিনিং আয়োজন মানুষের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।

