যশোরের ঝিকরগাছায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে এক যুবদল কর্মীসহ তার বাবা ও ফুফাতো ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ জুলাই) রাতে নাভারণ ইউনিয়নের চান্দেরপোল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন ঝিকরগাছা থানার ওসি নুর মোহাম্মদ গাজী।
আহত যুবদল কর্মী গুণনগর গ্রামের আরাফাত হোসেন লাল্টু (৩৫)। সংঘর্ষে তার হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল হয়ে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।
লাল্টুর দুলাভাই শাহাজান জানান, হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে লাল্টুর বাবা ও মামুন নামের এক স্বজনও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, লাল্টুর হাতের কব্জি শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নীর অনুসারী লাল্টু ও রুবেলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল সাবেক আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপুর অনুসারী মিজান, সোহাগ ডাক্তার, রশিদ ও রেজার। দীর্ঘদিন ধরে এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল, যারই রূপ সম্প্রতি সংঘর্ষে পরিণত হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুন বলেন, “দলের শৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি নুর মোহাম্মদ গাজী জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

