রাজধানীর পল্লবীতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের দায়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কার দুই এজেন্টকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৬ আসনের মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অভিযান চালানো হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) এবং রাইহান হোসেন (২৩)। তারা উভয়েই সংশ্লিষ্ট আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।
জানা গেছে, নির্বাচনের আগের রাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই দুই ব্যক্তি মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। কেন্দ্রের দায়িত্বরত পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলাম (সহকারী শিক্ষিকা) তাদের এই অবৈধ অনুপ্রবেশে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত পোলিং অফিসার সুমনা ইসলাম স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী।
বিষয়টি নজরে আসার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৩(২)(বি) ধারা অনুযায়ী দোষীদের বিচার করা হয়।
* সাজা: উভয়কে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
* অনাদায়ে সাজা: অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনিয়মে সহায়তার দায়ে অভিযুক্ত পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

