এনসিপির যশোর কর্মসূচি: রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, ভারতের দাদাগিরির বিরোধিতা

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:

‘‘লক্ষ-কোটি মানুষ আছে বলে একটি বড় দল ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই,’’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১১ জুলাই) যশোর ঈদগাহ মোড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, “আওয়ামী লীগের সময়েও মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এবারও প্রয়োজন হলে রাস্তায় নামবো।” তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত বানানো চলবে না।

তিনি আরও বলেন, “যশোরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব চলতে দেওয়া হবে না। এনসিপির কেউ এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না।” নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কারের দাবিও জানান তিনি।

এসময় তিনি যশোর মেডিকেল কলেজের বেহাল অবস্থা, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার ও বেনাপোলে দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরে বলেন, “এসব সমস্যার সমাধানে এনসিপি কাজ করছে।”

সমাবেশে সংগঠনের সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, “আন্দোলনে ছাত্ররা রক্ত দেয়, আর সুবিধা নেয় অন্যরা। এবার আমরা রাস্তায়ই থাকছি।” তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার এবং বলেন, “ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, দাদাগিরি নয়।”

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “একটি দল ভারতে, আরেকটি লন্ডনে পালিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চক্রান্ত চলছে।

তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার, বিচার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কিন্তু একটি দল ‘নির্বাচন, নির্বাচন’ বলে সংস্কার এড়িয়ে যাচ্ছে।”

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “যশোরে আর কোনো চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস দেখতে চাই না।” তিনি সবার প্রতি এনসিপির পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এদিন সকালে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ স্লোগানে এনসিপি নেতারা আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে মডেল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে শহরে পদযাত্রা করেন তারা। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুনসহ অংশ নেন।

সভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ