যশোর সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র খোলার দায়িত্ব একজন পিয়নের ওপর অর্পণ করায় অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান ফারুকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অধ্যক্ষকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র খোলার কাজটি অধ্যক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা কমিটির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান নিয়মিতভাবে কলেজে অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে পিয়ন আবুজার মোবাইল ফোনে আসা এসএমএস দেখে প্রশ্নপত্রের খাম খুলে দিচ্ছেন। এটি স্পষ্টতই পরীক্ষা আইনের লঙ্ঘন।
একাধিক সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোনটিও ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রে না পাঠিয়ে তা পিয়নের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের কমিটির সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একের পর এক অনিয়ম করে চলেছেন। অতীতেও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছিলেন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। একটি সময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন, পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একাডেমিক নীতিমালাকে অমান্য করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কলেজের নথি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও, চারজন শিক্ষার্থী—সাথী খাতুন, রিতু বালা, ফারিয়া আফরিন লতিকা ও সিযুথি দাস সুআরনা—তিনটির বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ওই শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান ফারুক বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার সময় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি, এজন্য মোবাইল ফোন পিয়নের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন।’
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ‘অধ্যক্ষকেই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরীক্ষা শুরুর আগে নিজ উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র খোলার নিয়ম মানতে হবে। অন্য কোনো উপায়ে সেটি করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
শিক্ষকদের একটি অংশ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

