হজের গুরুত্বপূর্ণ রোকন ‘রমি’: আত্মশুদ্ধির প্রতীকী অনুশীলন

আরো পড়ুন

হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রোকন বা আনুষ্ঠানিকতা হলো ‘রমি জামারাত’—প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে কঙ্কর নিক্ষেপ। এই রীতি পালন শুরু হয় ১০ জিলহজ থেকে, যখন হাজিরা মিনায় বড় জামারায় (জুমরায়ে আকাবা) ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজে তিনটি জামারায়—ছোট (উলা), মধ্যম (উস্তা) ও বড় (আকাবা)—প্রতিটিতে ৭টি করে মোট ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

রমির পেছনে রয়েছে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন আল্লাহর আদেশে পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি দিতে যাচ্ছিলেন, তখন শয়তান পথের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে। আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে কঙ্কর ছুড়ে তাড়িয়ে দেন। সেই ঘটনার স্মরণেই এই প্রতীকী রীতির প্রচলন।

চলতি বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে ৪ জুন, ৮ জিলহজ থেকে। এদিন হাজিরা মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধেন এবং মক্কায় পৌঁছে তাওয়াফে কুদুম শেষ করে মিনায় অবস্থান নেন। এরপর ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হয়, যেখানে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করা হয়। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার পথে রওনা দেন হাজিরা, এবং সেখানে রাত কাটিয়ে ১০ জিলহজ সকালে ফজরের নামাজের পর কঙ্কর সংগ্রহ করেন।

পরে তারা মিনায় ফিরে বড় জামারায় ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। এই সময় দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। মিনায় তিনটি পাথরের স্তম্ভকে বলা হয় জামারাত—জুমরায়ে উলা (ছোট শয়তান), জুমরায়ে উস্তা (মধ্যম শয়তান) এবং জুমরায়ে আকাবা (বড় শয়তান)।

হজযাত্রীরা এই প্রতীকী শয়তানদের লক্ষ্য করে কঙ্কর নিক্ষেপ করে যেন কুপ্রবৃত্তি, নফস এবং শয়তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে তাদের আত্মিক সংগ্রামের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আজ ১০ জিলহজ, পবিত্র হজের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘রমি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। হাজিরা বড় জামারায় কঙ্কর ছুঁড়ে আত্মশুদ্ধি, আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এক অনন্য অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ