বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, যশোরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মামলা

আরো পড়ুন

বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যশোরের এক পরিবার থেকে ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (১ জুন) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন বাঘারপাড়া উপজেলার তৈলধান্যপুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্বশুর শাহাদত হোসেন।

তিনি জানান, শরিফুল ইসলামের ছেলে শাহেদ আহম্মেদকে ইতালিতে ভালো চাকরির প্রলোভন দিয়ে প্রথমে ১৬ লাখ টাকায় চুক্তি করে প্রতারক চক্র। জমি বিক্রি, ধারদেনা ও সহায়-সম্বল বিক্রির মাধ্যমে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ধাপে ধাপে টাকাগুলো পরিশোধ করা হয়।

কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শাহেদকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে তাকে ঘুরপথে দুবাই, কেনিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা হয়ে পাঠানো হয় কাজাখস্তানে। সেখান থেকে পুলিশের হাতে আটক হলে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন তাকে ছাড়িয়ে নেন এবং পরে শাহেদকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে পরিবার ওই অর্থও প্রদান করে।

সবমিলিয়ে শরিফুল ইসলামের পরিবার থেকে মোট ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। শেষ পর্যন্ত শাহেদকে দেশে ফেরত পাঠানো হলেও টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং টাকা চাইলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম গত ২২ মে বাঘারপাড়া আমলি আদালতে মামলা করেন (সি.আর. মামলা নম্বর ২৪৫/২৫)। মামলায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন: একই গ্রামের নাজমুল হাসান বিপ্লব, তার বাবা হায়দার আলী, স্ত্রী কাকলী বেগম, চন্ডিপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা টাকা ফেরতের দাবি জানান।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ