ইযশোর জজ আদালতের হাজতখানায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েল খান পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। পলাতক জুয়েল মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর খানের ছেলে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মাগুরা থেকে ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বুধোপুর গ্রামে যান জুয়েল ও তার সহযোগীরা। সেখানে ইজিবাইকচালক আল-আমিনকে হাত-পা বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে তারা ইজিবাইকসহ পালিয়ে যায়। পরদিন পুলিশ নিহতের মরদেহ ও ইজিবাইক উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আল-আমিনের বাবা বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে র্যাব-৬ খুলনার স্পেশাল টিম অভিযুক্ত জুয়েলসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা হত্যার দায় স্বীকার করে এবং আল-আমিনের ইজিবাইকের ব্যাটারি, চাকা ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার হয়।
২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হরষিত রায় জুয়েল খান ও হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে বিচারাধীন।
রোববার ছিল মামলার ধার্য তারিখ। সকালে আসামি জুয়েল খান ও হারুন অর রশিদকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ কনস্টেবল সোনালী তাদের নিয়ে হাজতখানায় যাওয়ার সময়, আদালতের নিজ তলার সিঁড়ির কাছে পৌঁছেই কৌশলে হাতকড়া ভেঙে পালিয়ে যায় জুয়েল।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জুয়েলকে ধাওয়া করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সে আদালতের সামনের গেট দিয়ে বের হয়ে মসজিদের পাশ দিয়ে দৌড়ে খড়কি এলাকার দিকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাসার এবং কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত আদালতে পৌঁছান। বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিকে খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

