স্মার্ট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের মাধ্যমে হজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যশোরের অন্তত এক ডজন ইমামের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছে এক প্রতারক চক্র। ইমামদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৫ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে চক্রটি এখন গা ঢাকা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ হজযাত্রী সৌদি আরব যাত্রা করলেও প্রতারিত ইমামরা আজও অপেক্ষায়।
প্রতারিতদের মধ্যে অন্যতম যশোর জিলা স্কুল জামে মসজিদের ইমাম ও মন্ডলগাতী মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম আশরাফ আলী। তিনি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
জানা গেছে, বাঘারপাড়ার দয়ারামপুরের মৃত মইন উদ্দীনের ছেলে আবু হুরাইরা (৩৮) ও খাজুরা দুর্গাপুরের নোমান (৩৫) নিজেকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তারা নিজেদের স্মার্ট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের প্রতিনিধি দাবি করে কম খরচে নিরাপদে হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখান।
ইমাম আশরাফ আলী জানান, চলতি বছরের হজের জন্য আবু হুরাইরার সঙ্গে যোগাযোগ হলে প্রতারকচক্রের দাবিমতো গত ২৬ মার্চ, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর হজ রেজিস্ট্রেশন, মেডিকেল ও টিকিট সম্পন্ন হয়েছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরে নোমান ফোনে মাথাপিছু অতিরিক্ত ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। আশরাফ আলী এই অর্থ দিতে রাজি হলেও তারা আর সাড়া দেননি। বর্তমানে তাদের ফোন বন্ধ এবং অনলাইন কার্যক্রমও স্থগিত।
প্রতারিত অন্য ইমামদের মধ্যে রয়েছেন পালবাড়ি মসজিদের ইমাম মুফতি হুমায়ুন কবির (৭ লাখ টাকা), খুলনা বাসস্ট্যান্ড মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল মান্নান (৯ লাখ টাকা), আরবপুরের মাওলানা ফরহাদ হোসেন (১০ লাখ টাকা)। আরও কয়েকজন ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক এ চক্রের খপ্পরে পড়ে অর্থ হারিয়েছেন বলে আশরাফ আলী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। একজন অভিজ্ঞ অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

