-
রাজনৈতিক লাভের আশায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর ঢাকার সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফয়সাল রেজার দিকে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তার স্ত্রী শিখা। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ ফয়সালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিখা বলেন, বিয়ের পর জানতে পারেন যে ফয়সাল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিয়ের শুরুর দিকে তিনি ছিলেন বেকার, সংসারের যাবতীয় খরচ তাকেই চালাতে হতো। ফয়সাল তার পরিবারের জন্য, এমনকি মালয়েশিয়ায় থাকা ভাইদের জন্যও তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে পাঠাতেন।
শিখা জানান, তার কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হতো। এমনকি তার মাকেও সুদের ওপর ঋণ নিতে বাধ্য করা হয়, যা শোধ করতে হত তাকেই। ব্যবসার নামে ও বন্ধুর সহযোগিতায় ফয়সাল তার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেয়।
তিনি বলেন, বিয়ের পর কক্সবাজার ভ্রমণে গেলে ফয়সালের বন্ধু দিদারও তাদের সঙ্গে ছিলেন, যাকে ফয়সাল তার ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে ফয়সাল তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিখার দাবি, ফয়সাল তার আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার চুরি করে এবং তার কর্মস্থল থেকে পাঁচ লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয়। এছাড়া কোরবানির ঈদের আগে ৫০ হাজার ও পরে আরও ২৫ হাজার টাকা নিয়ে বসুন্ধরায় মার্কেট করে ফয়সাল।
ঘটনার চরমে, এক গ্রাম্য তরুণী ফয়সালের বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শিখা জানতে পারেন, ফয়সাল অন্য একজনকে বিয়ের উদ্দেশ্যে তার পরিবার নিয়ে মেয়েটির বান্ধবীর বাড়িতে যান।
শিখা আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ফয়সাল তাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। একসময় ছাত্রদলের সাংগঠনিক পদ পাওয়ার পর শিখাকে একপ্রকার পরিত্যাগ করে।
তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর ফয়সাল তার অনুসারীদের নিয়ে শিখার অফিসে হামলা চালান এবং গোপনে তালাক দেন। যদিও পরে তালাকপত্র প্রত্যাহার করেন তিনি।
এই ঘটনার পর সরকারি বাঙলা কলেজে আন্দোলনও হয়, কারণ ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিত কেউ সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে পারে না। বর্তমানে শিখা নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছেন এবং তাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

