মাগুরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে জেলা চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা পৌরসভার পারলা এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—মাগুরা চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি ফরিদ হাসান খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রেজা, মাগুরা পৌর আওয়ামী লীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সহসভাপতি নূহু দারুল হুদা, কাজী আরিফুল হক (ভায়না), আবদুল জলিল (আবালপুর), আইনুল হোসাইন (বাখেরা, শ্রীপুর), শাহীন শেখ, ইলিয়াছ খান (পটুয়াখালী) ও সৈয়দ খায়রুল আলম (আদাবর, ঢাকা)।
সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পারলা এলাকায় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ অবস্থান করছে এমন তথ্য পেয়ে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চায়নিজ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড গুলি, একটি এয়ারগান ও তার ২৬৪টি গুলি, দুটি চায়নিজ কুড়াল, ছয়টি চাপাতি, দুই বোতল মদ, এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ১১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তবে আটককৃতদের পক্ষ থেকে এ অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফরিদ হাসান খানের ভাই ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান খান বলেন, “আমার ভাইসহ যারা আটক হয়েছেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থল আমাদের বৈধ খামার এলাকা, যেখানে ফার্মের কাজেই দেশি অস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল। উদ্ধার দেখানো টাকা আমাদের ব্যবসার।”
এ বিষয়ে মাগুরা সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সাফিন বলেন, “ফরিদ হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ ছিল। এসব তথ্য যাচাই করে অভিযান চালানো হয় এবং প্রাপ্ত আলামতসহ তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে মাগুরা জুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

