যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সরকারি কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে এক পরিবারকে ঘিরে রেখে হত্যাচেষ্টা চালায় এবং বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল, দুপুরে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে বাড়ির বাসিন্দাদের উদ্ধার করে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর গ্রামের মৃত সৈয়েদুর রহমানের ছেলে আব্দুল কাদেরের সঙ্গে একই এলাকার মোফাজ্জেল করিম তুষার ও তার ভাই পলাশের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর তুষার ও পলাশসহ আরও কয়েকজন আব্দুল কাদেরের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় কাদেরের স্ত্রী রেবেকা পারভিন ও ছেলে আসাদুজ্জামান গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর ১০ অক্টোবর আব্দুল কাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা (সি.আর. ৪৪২৩/২০২৪) দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পাঠায় পিবিআই যশোরে।
পিবিআই-এর এসআই মোস্তফা হাবিবুল্লাহ (পিপিএম) তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৫০৬ ধারায় অভিযোগ এনে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আসামিরা এই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পেরে ৫ এপ্রিল ফের হামলার পরিকল্পনা করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেদিন ৫-৬ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে তারা আব্দুল কাদেরের আত্মীয়ের বাড়ি তালাবদ্ধ করে পরিবারকে জিম্মি করে রাখে। এরপর কাদের ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা কাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তার পকেট থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে জিম্মিদের উদ্ধার করে। ঘটনার পর আব্দুল কাদের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তভার দেওয়া হয়েছে তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আল আমিনকে।
এসআই আল আমিন বলেন, “এটি দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ। আব্দুল কাদের একজন গরিব মেকানিক, আর আসামি তুষার ও পলাশ দুজনই সরকারি কর্মচারী। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে।”
এদিকে, ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের “গ্রামের কাগজ”কে জানান, “আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের ওপর আবার হামলা হতে পারে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

