ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী মিলন হোসেনের বীভৎসভাবে হত্যা করা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিলেও মিলনকে জীবিত ফেরত পাননি তার বাবা পানজাব আলী।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মো. সেজান আলী, যিনি শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকার কথিত সাংবাদিক। আরেকজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিলনের মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেজান আলীর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের নিচে মিলনের গলিত লাশ পাওয়া গেছে। ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ জানান, বুধবার রাতে মিলনকে অপহরণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মিলন হোসেন (২৩) দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাওয়ের চাপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে পড়ে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। এরপর অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য প্রথমে ৩ লাখ টাকা দাবি করে, যা ক্রমান্বয়ে ২৫ লাখ টাকায় পৌঁছে।
মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও মিলনকে জীবিত ফেরত না পাওয়ায় পরিবারটি শোকে পাথর হয়ে গেছে। তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

