যশোরের রেলগেট এলাকার মীর সামির সাকিব সাদী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় ভিআইপি কাপড় মার্কেট এবং রেলবাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এ দুই ব্যবসায়ী এলাকা থেকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকারও বেশি চাঁদা সংগ্রহ এবং এর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, যুবলীগ সমর্থিত চাঁদাবাজির দুটি বলয়ের মধ্যে চলমান বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে। ঘটনার পর সাদীর মা কামরুন্নাহার বেগম অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী বাবুল হোসেন জানান, ঘটনার তদন্তে একাধিক টিম মাঠে রয়েছে এবং দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ১৭ মার্চ দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে। দুর্বৃত্তরা শহরের মুজিব সড়ক জয়তী সোসাইটির পেছনে সাদীর বাসায় ঢুকে তাকে ছুরি ও গুলি করে হত্যা করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় মেহেদী ও ট্যাটু সুমন চাঁদা না পেয়ে সাদীকে হত্যা করেছে।
তবে সরেজমিনে তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় ভিআইপি কাপড় মার্কেট এবং রেলবাজার কেন্দ্রিক আধিপত্য ও অর্থনৈতিক ভাগাভাগি নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে নির্দিষ্ট কিছু দোকান থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলা হতো, যা ৫ লাখ টাকারও বেশি। এ অর্থের ভাগাভাগি নিয়েও পুলিশ তদন্ত করছে।
এদিকে, সাদীর চাচাতো ভাই রাকিব হত্যাকাণ্ডের রাতে মেহেদী ও ট্যাটু সুমনের নাম উল্লেখ করলেও মামলায় আসামি অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। ওসি কাজী বাবুল হোসেন জানান, মামলার এজাহারে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ তদন্ত চলছে এবং দ্রুত আসামিদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, ভিআইপি মার্কেট এবং রেলবাজারের চাঁদাবাজ চক্রের আধিপত্য বিস্তার নিয়েই সাদী হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২ বছর আগে সাদী চাঁদাবাজির চক্র থেকে বেরিয়ে আসেন এবং রেলবাজারের ইজারাদার হন। এরপর থেকে তিনি রেলবাজারের চাঁদাবাজ চক্রকে প্রশ্রয় না দেওয়ায় বিরোধ আরও বেড়ে যায়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
এলাকাবাসী সাদী হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার পেছনের মূল কারণ খুঁজে বের করতে সচেষ্ট রয়েছে।

