রাজধানীর কাফরুল থানাধীন বিআরটিএ অফিসের পেছনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আতিকুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও মোহনা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা
সোমবার (৪ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন।
আদালতে নিজ বক্তব্যে কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, “আমি ৭৬ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ মানুষ। আমার চোখের ৭০ শতাংশ দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে গেছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ নিতে পারছি না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব না। এখন থেকে দলটির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।”
কারাগারে চিকিৎসার অনুরোধ
তিনি অভিযোগ করেন, “কারাগারে ডায়াবেটিস চেক করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি পবিত্র কোরআন শরীফও দেয়া হয়নি। একের পর এক মামলা দিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমি আদালতের কাছে অনুরোধ করছি, যেন আমাকে ডায়াবেটিসের ওষুধ, চেকআপের জন্য ডিজিটাল যন্ত্র এবং ডিজিটাল কোরআন শরীফ সরবরাহ করা হয়।”
এ সময় একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিচারক পার্থ ভদ্র বলেন, “আপনার সব দাবি আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করুন।” এরপর আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
হত্যা মামলার পটভূমি
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন বিআরটিএ অফিসের পেছনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে, গত ২৩ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী আহসান হাবীব কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদার ১০ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

