রোজার প্রথম দিন থেকেই জমজমাট যশোরের ইফতার বাজার। শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং প্রধান মোড়গুলোতে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ইফতারির দোকান। ছোলা, পিঁয়াজু, চপ, বেগুনি ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, শাহী জিলাপি, ফিরনি ও অন্যান্য মিষ্টান্ন।
বাজারের পরিস্থিতি
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও এ বছর ইফতারের দাম প্রায় আগের মতোই রাখা হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই বাজারে প্রস্তুতি শুরু হয় এবং বিকেল থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।
যশোর শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি খাবার হোটেলের সামনে ইফতার সামগ্রীর সারি সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা ইফতার কিনতে ভিড় করছেন ক্যাফে প্রেসক্লাব, ভৈরব হোটেল, নিউ নুরু, পাঁচফোড়ন, ডাকুয়া হোটেলসহ অন্যান্য হোটেল ও দোকানে।
দামের তালিকা ও বিক্রির চিত্র
মুজিব সড়কের ক্যাফে প্রেসক্লাবের মালিক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইফতারের অধিকাংশ আইটেম আগের দামে বিক্রি হচ্ছে, কিছু কিছু পণ্যের দাম বরং কমেছে।
- রেশমি ও শাহী জিলাপি: ৭ টাকা/পিস
- জালি কাবাব: ১৫ টাকা/পিস
- মাটন কাটলেট: ৩০ টাকা
- চিংড়ির চপ: ২০ টাকা
- চিকেন ফ্রাই ও সাসলিক: ৫০ টাকা
- শাহী হালিম: ৬০ টাকা/বাটি
- ফিরনি: ২৫ টাকা/কাপ
- ছোলা (১০০ গ্রাম): ২০ টাকা
- পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, সবজি পাকোড়া: ৫ টাকা/পিস
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই ক্রেতাদের চাপ বেশি ছিল এবং বিক্রিও ভালো হয়েছে।
ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
শহরের বেজপাড়া থেকে ইফতার কিনতে আসা তানভির হোসেন জানান, তার পরিবার এখানকার খাবার পছন্দ করে, তাই এখান থেকে ইফতার কিনছেন। দাম যাচাই করার সময় নেই, দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে।
আরেক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “অধিকাংশ ইফতার আগের দামে পাওয়া যাচ্ছে, তবে কিছু পণ্যের দাম আরও কম হওয়া উচিত ছিল।”
ফলের বাজার ও দাম
ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি নির্ভর ফলের দাম বেড়েছে, তবে ইফতারের জন্য সবচেয়ে পছন্দের পণ্য খেজুরের দাম কমেছে। যশোর জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এএইচ এম সাইদুল ইসলাম লিটন বলেন, “আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফলের দাম বেশি, তবে শুল্কহার কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।”
যশোর প্রতিনিধি মেহেদী

