ঠাকুরগাঁওয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক কবিরুল ইসলাম জয়কে (২৮) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ভুল্লী থানার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়—
- ঢাকা থেকে চোখের চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে জয়কে হামলা করা হয়।
- রাত ২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোনে তার অবস্থান জানতে চান।
- ভোর ৫টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
- ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় এবং তার সঙ্গে থাকা কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
- পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, হামলাকারীরা জয়কে হত্যার উদ্দেশ্যেই আক্রমণ করে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার রাকিবুল ইসলাম চয়ন জানান—
- জয়ের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
- গুরুতর জখমের কারণে বেশ কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
- তাকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের ভূমিকা ও হামলার কারণ
কোটা আন্দোলনের এক সহযোদ্ধা জানান—
- জয় গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
- তার শরীরে প্রায় ২৭টি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
- চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন।
- ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান,
“বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
কোটা আন্দোলনকর্মীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানতে চান, কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে।

