বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর একটি বিশেষ ঘোষণা আসতে যাচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘোষণার মূল বিষয়বস্তু হলো “জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র” প্রকাশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা শনিবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক মাধ্যমে রহস্যজনক পোস্ট দেওয়া শুরু করেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করে।
- পোস্টগুলোতে “থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বর, নাও অর নেভার” এবং “প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভ্যুলেশন” এর মতো বার্তা ছিল।
- আন্দোলনের নেতারা জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি ছিল, যা ২০২৪ সালের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
ঘোষণাপত্রে যা থাকতে পারে:
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয় হলো একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের চেতনা বাস্তবায়ন করা।
- “জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট” অর্থাৎ আন্দোলনের মূল চেতনা ও লক্ষ্য তুলে ধরা হবে।
- বিগত ১৫ বছরে দমন-পীড়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, গুম ও ক্রসফায়ারের কারণে শিক্ষার্থীদের কেন অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তা উল্লেখ থাকবে।
- অভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রের রূপরেখা এবং মৌলিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কিছু সুপারিশমালাও থাকতে পারে।
- ঘোষণাপত্রটি রেট্রোস্পেক্টিভ কায়দায় ৫ই আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘোষণার কারণ:
- আন্দোলনের নেতারা মনে করেন, ৫ই আগস্টের পর বিপ্লবী সরকার গঠিত না হওয়ায় অনেক সিদ্ধান্ত বিপ্লবী কায়দায় নেওয়া যায়নি, যার ফলে প্রশাসনে বিভিন্ন সংকট তৈরি হয়েছে।
- তাঁরা জানান, এই ঘোষণাপত্র অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ৩১শে ডিসেম্বর ঘোষণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য তথ্য:
- ৩১শে ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শহীদ মিনারে এই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে।
- এই ঘোষণার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে আলোচনা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- আন্দোলনের নেতারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
- এই ঘোষণাপত্রকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সংক্ষেপে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩১শে ডিসেম্বরের ঘোষণাটি মূলত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও লক্ষ্য, একটি বৈষম্যহীন সমাজের রূপকল্প এবং ৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির বিশ্লেষণ সম্বলিত একটি দলিল।

