চাঁদপুরের হাইমচরে দুদিন আগে এমভি আল-বাখেরা জাহাজে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে সাতজন প্রাণ হারান। নিহতদের একজন সজীবুল ইসলামের নির্মম মৃত্যু শোক সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন তার বাবা দাউদ মোল্লা। ছেলের শোকে বাবার এই মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সজীবুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার বাবা দাউদ মোল্লা অঝোরে কাঁদছিলেন। স্বজনরা সান্ত্বনার চেষ্টা করলেও কোনো কাজ হয়নি। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত প্রায় ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান। শুক্রবার সকালে সজীবুলের মামা আহাদ সরদার দাউদ মোল্লার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সজীবুল ইসলামের মৃত্যুর সময় তার বিবাহিত জীবনের মাত্র পাঁচ মাস পূর্ণ হলো। সম্প্রতি পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। এই সময়টি কাজে লাগানোর জন্য এমভি আল-বাখেরা জাহাজে অস্থায়ীভাবে গ্রিজারের পদে কাজ নিচ্ছিলেন। তার বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে নিহত আরও একজন হলেন মাজিদুল ইসলাম, বয়স মাত্র ১৬ বছর। মাজিদুল একই ইউনিয়নের চর যশোবন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় তিনি জাহাজে কাজ নিয়েছিলেন।
চাঁদপুরের হাইমচরের ঈশানবালা খালের মুখ এলাকায় নোঙর করা এমভি আল-বাখেরা থেকে সোমবার দুপুর তিনটার দিকে নৌ-পুলিশ সাতজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, মৃতদেহগুলো জাহাজের কর্মীদের ঘুমানোর কক্ষগুলো থেকে পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। কেউ গলাকাটা অবস্থায়, কেউ মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে, আবার কেউ শরীরের অন্যান্য স্থানে ক্ষত নিয়ে পড়ে ছিল।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মহম্মদপুর থানার ওসি আব্দুর রহমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।

